October 1, 2026, 5:43 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরের চাপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে আটকে থাকা কমিশনিং কার্যক্রমে অগ্রগতি হয়েছে। প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভের (পিওআরভি) ত্রুটি সমাধানের পর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ১৬ মেগাপাসকেল চাপে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর নির্দিষ্ট সময় এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান পরীক্ষার সাফল্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগের রাত থেকে শুরু হওয়া পরীক্ষায় কেন্দ্রের প্রধান নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ—উভয় স্থান থেকেই ভালভ পরিচালনা ও এর কার্যকারিতা যাচাই করা হয়।
পরীক্ষায় কন্ট্রোল ভালভের কার্যক্রম, প্রধান সেফটি ভালভের প্রতিক্রিয়া, ভালভের খোলা-বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া, অ্যালার্ম এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি পরামিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনুমোদিত পদ্ধতি অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেই পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ভালভ
পিওআরভি রিঅ্যাক্টরের প্রাইমারি কুল্যান্ট বা শীতলীকরণ ব্যবস্থার চাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ব্যবস্থায় চাপ নির্ধারিত সীমার বাইরে চলে গেলে তা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে ভালভটি। ফলে এর নির্ভরযোগ্য কার্যকারিতা নিশ্চিত করা রিঅ্যাক্টরের নিরাপদ পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে ভালভটিতে বারবার ত্রুটি দেখা দেওয়ায় প্রথম ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয় এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময়সূচি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সমস্যাটি সমাধানে রাশিয়ার পারমাণবিক প্রকৌশল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেএসসি এএসইর সঙ্গে আলোচনা হয়। পরে ২২ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের একটি রুশ বিশেষজ্ঞ দল রূপপুর প্রকল্প এলাকায় আসে। বাংলাদেশি ও রুশ বিশেষজ্ঞদের যৌথ প্রচেষ্টায় ত্রুটি সমাধান এবং পরবর্তী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
সামনে আরও পরীক্ষা
১৬ মেগাপাসকেল চাপে পরীক্ষা সফল হলেও কমিশনিং প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। পরবর্তী ধাপে প্রায় ১৮ মেগাপাসকেল চাপে আরও একটি পরীক্ষা করার কথা রয়েছে। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাগুলোর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা যাচাই করে পরবর্তী পর্যায়ের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, সেফটি ভালভের ত্রুটির কারণে প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময় পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে ত্রুটি সমাধান ও উৎপাদন শুরুর নির্দিষ্ট সময়সীমা তখন জানানো হয়নি।
সর্বশেষ পরীক্ষার সাফল্য কমিশনিং কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও এর ভিত্তিতে এখনই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর সময় নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের পরই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।